বৃক্ষনিধনে উজাড় হচ্ছে মধুপুর বনাঞ্চল
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৭-১০-২০২৬ ১১:৫১:১০ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
১৭-১০-২০২৬ ১১:৫১:১০ পূর্বাহ্ন
পরিবেশ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ লাখ বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিলেও টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে তা মানা হচ্ছে না। বৃক্ষনিধন করে দখল হয়ে যাচ্ছে এই বনাঞ্চল। ফলে মধুপুর বনাঞ্চল এখন উজাড় হওয়ার পথে।
জানা গেছে, টাঙ্গাইলের মধুপুরের প্রাকৃতিক শাল-গজারির বন হচ্ছে অক্সিজেনের কারখানা। সেই মধুপুর বনাঞ্চলে চলছে বৃক্ষনিধনের মহোৎসব। এই বনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বনের গাছ কেটে উজাড়ের অভিযোগ উঠেছে । দোখলা রেঞ্জের সদর বিট, চুনিয়া দক্ষিণ-পূর্ব ফেকামারি, জামবাইদ এলাকার প্রায় পাঁচ বিঘা বনভূমিতে পুরোনো শাল ও গজারি শত শত গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে । স্থানীয়দের দাবি, দিনের পর দিন প্রকাশ্যে গাছ কেটে বনভূমি উজাড় করা হচ্ছে। পরে এসব জমি দখলে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষাবাদ করছেন ।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে এসব গাছ কাটা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অপরদিকে অরণখোলা বিটে বনের জমি দখল করে স্থায়ী পাকা ইমারত নির্মাণ করাও অভিযোগ উঠেছে।
পরিবেশবিদদের মতে, প্রাকৃতিক শালবন শুধু গাছের সমষ্টি নয়; এটি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, মাটির গুণাগুণ রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুরোনো শাল-গজারি গাছ কেটে ফেলা হলে বনের স্বাভাবিক পুনর্জন্ম ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বনভূমি দখল করে কৃষিকাজ সম্প্রসারণ করা হলে প্রাকৃতিক বনের পরিমাণ আরো কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এ বিষয়ে পরিবেশকর্মী রাতুল মুন্সি জানান, বন বিভাগের লোক বন কাটার পেছনে যুক্ত এটা পুরোনো গল্প । বনের জীববৈচিত্র্য কেন দরকার সেই বিষয়গুলো নিয়ে যদি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা না যায়, তাহলে বন বাঁচানো সম্ভব হবে না। যারা সামাজিক বনের সুফলভোগী তারাই বন কাটছে, যেটা বন বিভাগ জানে আর বন বিভাগ সর্বোচ্চ যে ব্যবস্থাটা নেয় সেটা হচ্ছে কাঠ জব্দ করা, মামলা দেওয়া, বন যেভাবে কাটা হচ্ছে তাতে কাঠ জব্দ করে মামলা দিয়ে বন রক্ষা সম্ভব না। এ বিষয়ে মানুষ সচেতন না হলে রক্ষা করা সম্ভব না।
দোখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আমিনুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জামবাইদ এলাকার বন সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। এছাড়া তিনি বিট অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ওই এলাকার বন কাটার বিষয়ে তারা অবগত আছেন এবং এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে গাছ কাটা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।
সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এসবি তানবির আহমদ ইমন জানান, আমাকে তথ্য দেন বিষয়টি আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব।
টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নাজমুল আলম বলেন, ইতোমধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ওখান থেকে সরানো হয়েছে। ছবিসহ তথ্য পাঠান, সঠিক তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স